আমিরাতের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশের পররাস্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব একি সূত্রে গাঁথা !

0
344

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন যায়েদ আল নাহিয়ান করোনা পরিস্থিতিতে অনেক বিদেশিদের নিয়ে যাচ্ছে।এর মধ্যে ভারতের ২লাখ, পাকিস্তান হাজার হাজারের মতো বাংলাদেশীকেও আমিরাত ফেরৎ নেবার প্রস্তাব দেয় গত ১১ জুন মঙ্গলবার।

এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন আমিরাতের পররাস্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, `আমাদের যারা কাজ করে এরা গরীব ঘরানা, তারা আপনাদের উন্নয়নের সহায়ক। তাদের যদি আপনি রাখেন অনেক সুবিধা আপনার। তারা হয়তো একটি কাজ করে এখন, তবে তারা দ্রুত অভিজ্ঞ,।মহামারির কারণে কিছুদিন পর খাদ্য ঘাটতি দেখা দিবে।

আপনি জানেন না যে, তারা পরিক্ষিত, তারা খাদ্য উৎপাদনে অসম্ভব সফলকামি। আপনাদের মরুভূমিকে দেখবেন গ্রীনারি বানিয়ে ফেলছে। দেখেন তাদের ওখানে কৃষি খাতে লাগাতে পারেন কিনা। এইসব কথার উত্তরে আবদুল্লাহ বিন যায়েদ বললেন, এটি উত্তম প্রস্তাব । আমি এই নিয়ে আপনার সাথে কাজ করবো- বলে আশ্বস দেন আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ।

দুই-এক সপ্তাহ যেতে না যেতে গত রোববার (২৮জুন) আমিরাতের শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রীসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠক সম্পর্কে তিনি টুইট করে জানালেন- ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত স্থানীয় খামারগুলির উৎপাদন ও গুণগতমান বাড়ানোর জন্য টেকসই কৃষির জন্য একটি জাতীয় ব্যবস্থা চালু করেন।

এই সময় আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমি একটি মন্ত্রিসভার বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছি। যাতে আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের খামারগুলির দক্ষতা উন্নত করতে, খাদ্যে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়ানোর জন্য এবং খাতকে সর্বদা সেরাদের মধ্যে স্থান দেওয়া নিশ্চিত করার জন্য, নতুন সুযোগ তৈরি করার জন্য, টেকসই কৃষির জন্য একটি জাতীয় ব্যবস্থা অনুমোদন করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে নতুন কৃষিক্ষেত্র ও ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে চাই এবং কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় সক্রিয় পরিবর্তন আনতে চাই।’

টেকসই কৃষিক্ষেত্রের জাতীয় ব্যবস্থাটি লক্ষ্যমাত্রাযুক্ত ফসল থেকে বার্ষিক পাঁচ শতাংশ এবং কৃষিকাজের গড় আয় বার্ষিক দশ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সামাজিকভাবে, সিস্টেমটির লক্ষ্য এই খাতে বার্ষিক পাঁচ শতাংশ লোকসমাজ বৃদ্ধি করা। পরিবেশগতভাবে, এটি একটি উৎপাদিত ইউনিটের সেচের জন্য ব্যবহৃত পানির ১৫ শতাংশ বার্ষিক হ্রাস লক্ষ্য করে।

এই সিস্টেমটির লক্ষ্য স্থানীয় কৃষিক্ষেত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করা যাতে খাদ্য সুরক্ষা, জলের ঘাটতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ফলস্বরূপ খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশকে সহায়তা করতে পারে।

এতে খাদ্য সুরক্ষা প্রতিমন্ত্রী মরিয়ম আলমেহিরি বলেছিলেন, টেকসই কৃষির জন্য জাতীয় ব্যবস্থা চালু করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের খাদ্য সুরক্ষা এজেন্ডাকে বাড়িয়ে তুলবে।

‘টেকসইতা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের সময় খাদ্য খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত বিকাশের একটি জাতীয় এবং বিশ্বব্যাপী প্রবণতা খাদ্য সুরক্ষায় স্থায়িত্ব বর্জ্য হ্রাস করে এবং এই খাতকে মোকাবেলা করা চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ “তাজা পানির ঘাটতি,” উল্লেখ করেন।

এখানে বলা যেতে পারে হঠাৎ সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্থানীয় খামারগুলির উৎপাদন ও গুণগতমান বাড়ানোর জন্য টেকসই কৃষির জন্য জাতীয় ব্যবস্থা চালু করাটি পররাস্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেনের প্রস্তাবের সাথে একি সূত্রে গাঁথা নয় কি !

LEAVE A REPLY