মালয়েশিয়ায় ফিরতে পারবেন লকডাউনে আটকে পড়া বাংলাদেশীরা : মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান

0
197

মালেশিয়া থেকে মোস্তফা ইমরান রাজু:


“বাংলাদেশীকর্মীরা অনেক পরিশ্রমী, দক্ষ এবং আন্তরিক, তাঁরা মালয়েশিয়ার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং এ সকল কর্মীদের সুরক্ষা প্রদান করা হবে।” বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলামে’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ মন্তব্য করেন ।

সাক্ষাতে ছুটিতে গিয়ে দেশে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যাপারে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকে পড়া কর্মীরা মালয়েশিয়ায় ফিরতে পারবেন। আর যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় বাংলাদেশিকর্মী এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিক আলোচনা হয়। হাইকমিশনার মুহ. শহীদুল ইসলাম নবনিযুক্ত মানবসম্পদ মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং করোনাকালে এ সাক্ষাতকার প্রদান করায় ধন্যবাদ জানান। আলোচনাকালে হাইকমিশনার করোনা নিয়ন্ত্রণের সফলতার জন্য মালয়েশিয় সরকারের প্রশংসা করেন।

হাইকমিশনার করোনা পরিস্থিতিতে চলাচল নিয়ন্ত্রণ আদেশ সময়ে মালয়েশিয়া সরকার এবং বিভিন্ন এজেন্সীর সাথে বাংলাদেশ হাইকমিশন কাঁধেকাঁধ মিলিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণে যে কাজ করেছে তা এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে করোনার কারণে বিপদগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের নিকট খাবার সহায়তা পৌছে দেওয়া, চাকরি ও বেতন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় কোয়ারেন্টাইন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য হাইকমিশনার ধন্যবাদ জানান।

তিনি করোনা পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাংলাদেশি কর্মীকে যাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে না হয় এজন্য নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের সুযোগ প্রদান করায় ধন্যবাদ জানান।

এসময় মানবসম্পদ মন্ত্রী সঠিকভাবে দৃঢ়তার সাথে সরকারের ভিশনারি নেতৃত্ব দেয়া এবং সফলতার সাথে করোনা মোকাবেলায় সাহসী নেতৃত্ব প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মন্ত্রী বলেন, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা বিদেশীদের বৈধতা দিয়ে কর্মে নিয়োগ এবং অবৈধদের বৈধতা প্রদানের জন্য মালয়েশিয়া সরকার কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, নিয়োগকর্তারা যাতে বিদেশী কর্মীদের সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ, যথাযথ আবাসন এবং নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করে সে সকল বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। যোগ করেন, বিদেশী কর্মীদের সার্ভিস বেনিফিট প্রদান করা হবে এবং সেভিংসের ব্যবস্থা করা হবে যাতে একেবারে শুন্য হাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে না হয়।

হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ছুটিতে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা কাজে যোগ দিতে চায় এবং অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে কেননা ছুটিতে থাকায় পারমিট রিনিউ করতে পারে নি। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন যাদের ভিসার মেয়াদ আছে তাঁরা নিয়ম মেনে মালয়েশিয়া আসতে পারবেন এবং যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে তাঁরা যাতে আবার মালয়েশিয়ায় আসতে পারে সে বিষয়ে সরকার শীঘ্রই ঘোষণা দিবে।

সাক্ষাৎকালে মানব মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতুক মোহা খাইর আজমান বিন মোহামেদ আনুয়ার, আন্ডার সেক্রেটারি (পলিসি) ড. নুর মাজনি বিনতি আবদুল মজিদ, আন্ডার সেক্রেটারি ড. জাকি বিন জাকারিয়া, প্রিনসিপয়াল এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি শাবুদ্দিন বিন বকর এবং হাইকমিশনের লেবার কাউন্সেলর জনাব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, লেবার কাউন্সেলর ২ জনাব মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল এবং ২য় শ্রম সচিব জনাব ফরিদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY