প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ে করায় যুবক খুন, পটিয়ায় গ্রেপ্তার ২

0
261

চট্টগ্রামের পটিয়ায় রগ কাটা ও গলায় গামছা পেঁচানো এক যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশিক মিয়া (২৪) ও মো. সুমন মিয়া (২১) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর সকালে পটিয়া থানাধীন মনসা আইডিয়াল স্কুলের পূর্ব-উত্তর পাশের ব্রীজ সংলগ্ল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন এন্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেমের’ মাধ্যমে নিহতের পরিচয় উদ্ঘাটনে সক্ষম হয় পিবিআই।

এরপর কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা নিহত নবী হোসেনের (২৮) ভাই কবির হোসেন পাঁচজনকে আসামি করে পটিয়া থানায় মামলা করলে তদন্তভার পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মনির হোসেন গ্রহণ করেন।

এরপর পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ মনির হোসেন ও এসআই মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল শুক্রবার নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে আশিককে ও কিশোরগঞ্জ থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি তাদের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি ২১ বছরের সাব্বিরের বাবা প্রবাসে থাকার সুবাধে তার মায়ের সাথে দূর সম্পর্কের চাচা নবী হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা পালিয়ে বিয়ে করে।

‘এ কারণে নবী হোসেনের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে সাব্বির হত্যার নীলনকশা তৈরি করে এবং গ্রেপ্তার দুই আসামিসহ পলাতক আরও আসামিদের নিয়ে নবী হোসেনকে অপহরণ করে। এরপর নবী হোসেনকে গাড়িতে তুলে কুমিল্লায় আনার পর মুখ বেঁধে গলা টিপে হত্যা করে এবং গায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।’

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, পরবর্তীতে পটিয়ায় মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে খুনিরা কক্সবাজার চলে যায়। কক্সবাজার থেকে ভৈরব ফেরত এসে হত্যার পরিকল্পনাকারী সাব্বির খুনের জন্য পূর্বের চুক্তি মোতাবেক ৬০ হাজার টাকা আসামি তুষারকে পরিশোধ করে।

হত্যায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY