হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ

0
137

হুমায়ূন আহমেদ। গত চার দশকে লেখক হিসেবে দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তিনি। বহুরৈখিক এ প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক যা কিছুই রচনা করেছেন, দুই বাংলার পাঠক তা-ই সাদরে লুফে নিয়েছেন। নাটক নির্মাতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ সমাদৃত। নন্দিত এ কথাসাহিত্যিকের ৭২তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের এই দিনে তিনি নেত্রকোনার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করার পর পলিমার ক্যামিস্ট্রির ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে ফিরে আসেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে। প্রাচ্যের বাতিঘরখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার পর এ পেশা ছেড়ে পুরোমাত্রায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।

সাহিত্যজগতে তার আগমন ঘটে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই বাংলা কথাসাহিত্যে পালাবদলের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। এর পর শঙ্খনীল কারাগার, লীলাবতী, জোছনা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, বাদশাহ নামদারসহ দুশর বেশি উপন্যাস রচনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ।

জীবদ্দশাতেই তুমুল জনপ্রিয় এ লেখক রচিত নাটকের চরিত্র এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, নাটকে তার ফাঁসি হওয়া মেনে নিতে পারেননি দর্শক-শ্রোতা। সেই চরিত্রকে রক্ষায় রাজপথে মিছিল হয়েছে। সে সময় নিরাপত্তার খাতিরে অনেকটা গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হয়েছে তার। বাংলাদেশের মানুষকে মাতৃভাষার সাহিত্যমুখী, নিজ দেশের টিভি নাটকমুখী করার ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদের তুলনা তিনি নিজেই। একইভাবে দেশি লেখকের বইয়ের পাঠক সৃষ্টিতেও তার রয়েছে বিশাল অবদান। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’। অভিষেকেই তিনি জয় করে নেন সিনেমাপ্রেমীদের মন। এ সিনেমাটির জন্য ১৯৯৪ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। একই বছর তার স্বীকৃতির ঝুলিতে যোগ হয় একুশে পদকের পালক। এর পর তিনি একে একে নির্মাণ করেন ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘আমার আছে জল’সহ বহু চলচ্চিত্র। তার নির্মিত শেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই মাত্র ৬৩ বছর বয়সে হুমায়ূন আহমেদ মারা যান। মৃত্যুর পরও অনন্য সব সৃষ্টির কারণে তিনি অমর হয়ে আছেন। আজ তার জন্মদিনে নন্দিত এ মানুষটি তার ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে ফিরে আসবেন হিমু হয়ে, মিসির আলী হয়ে; দূরের অথচ জ্বলজ্বলে স্মৃতি বাকের ভাই হয়ে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন প্রতিবছর তাদের প্রিয় এ লেখকের জন্মদিন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করে থাকে। কিন্তু এ বছর করোনা মহামারীর কারণে তেমন কোনো আয়োজন থাকছে না তার জন্মদিন ঘিরে। তবে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তাকে নিয়ে প্রচার হবে নানা অনুষ্ঠান।

LEAVE A REPLY