বেলজিয়াম রাজপরিবারের স্বীকৃতি পেল উদ্যোক্তা সাঈদ

0
165

বেলজিয়ামের ‘রাজপরিবারের উদ্যোক্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তা সাঈদ মীর। বেলজিয়ামে কোনো বাংলাদেশির জন্য এমন সন্মান এটাই প্রথম।

সাঈদ মীরকে নিয়ে বেলজিয়ামের টিভি চ্যানেল ‘আরটিবিএফ’-এ প্রায় চার মিনিটের একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে। দেশটির রেডিও থেকেও একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে। এ সন্মানে ভূষিত হওয়ায় এখন থেকে তার প্রতিষ্ঠানে বেলিজিয়ামের পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন সাঈদ মীর।

সাঈদ মীরের (৪৭) বাড়ি নারায়নগঞ্জে। তিনি মাত্র ২২ বছর বয়সে নতুন কিছু করার সদিচ্ছা নিয়ে ১৯৯৫ সালে বেলজিয়ামে পাড়ি জমান। প্রবাস জীবনে শুরুটা খুব ভালো ছিল না। জীবন যুদ্ধের প্রতিটা স্তরেই তিনি সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। এরমাঝেও অনেক বাঁধা এসেছে। নিজের মেধা, সততা আর ধৈর্য দিয়ে সেগুলো মোকাবিলা করে গেছেন।

শূন্য থেকে শুরু করে যাত্রাটা আর সবার মতোই সহজ ছিল না কিন্তু বর্তমানে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। বেলজিয়ামে ‘মীর কুতুর’ নামে তিনি পোশাক তৈরির একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ফ্রেঞ্চ ভাষায় ‘কুতুর’ অর্থ দর্জি দোকান। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১০ জন কর্মী কাজ করছেন। এছাড়াও মীর সাঈদের সহধর্মীনি পারভীন শেলী সার্বক্ষণিকভাবে স্বামীর পাশে থেকে তাকে কাজে সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

এই প্রতিষ্ঠান থেকে ব্রাসেলসে গুচি, শ্যানেল, জর্জ আরমানি, ডিওর এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডগুলোর শোরুমগুলোতে তৈরি পোশাক সরবরাহ করা হচ্ছে। এরপর থেকেই ‘মীর কুতুর’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাঈদ মীরের নাম ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমে তার প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করে।

এখন বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডের শোরুম ছাড়াও বেলজিয়ামের রাজপরিবার ‘হিজ ম্যাজেস্ট্রি কিং ফিলিপ ও হার ম্যাজেস্ট্রি কুইন মাতিল্ড’-এর জন্য এই প্রতিষ্ঠান থেকে পোশাক তৈরি করা হয়। বর্তমানে তাকে রাজ পরিবারের ‘এন্টারপ্রেনার’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পারভীন শেলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার অধ্যবসায়, সততা আর নিষ্ঠার কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ব্রাসেলসে একটি নির্ভরযোগ্য পোশাকের প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জর্জ আরমানির সূত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠান বেলিজিয়ামের রাজ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ। বর্তমানে আমাদের তৈরি পোশাক রাজপরিবারের অংশ হয়ে গেছে। একজন বাঙালি হিসেবে এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সন্মানজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন কোনো শপ বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাজপরিবারের সঙ্গে ‘এন্টারপ্রেনার’ হিসেবে থাকে, সেই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ফ্ল্যাগ ব্যবহারের পারমিশন দেওয়া হয়। এটা বেলজিয়ামে একটি সন্মানজনক বিষয়।’

LEAVE A REPLY