চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে দৃশ্যমান হল স্বপ্নের আবাসন

0
68

মহামারী করোনার কারণে কাজের গতি স্থবির ছিল নগরীর আগ্রাবাদের সিজিএস কলোনির ৬৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণের। করোনার হানায় সঠিক সময়ে শেষ না হওয়ায় বাড়াতে হয়েছে কাজের মেয়াদকালও। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা দ্রুত নিরসনে কাজের গতি আগের চেয়ে কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র গেল ১১ মাসেই অগ্রগতি হয়েছে ৩৫ ভাগ। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ শেষ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মেয়াদকাল বাড়লেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করতে চান তারা। এজন্য শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে ৯টি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজে।গণপূর্ত বিভাগ বলছে, এসব বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। সকল ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রেখেই এসব ফ্ল্যাট নির্মিত হচ্ছে। এরমধ্যে ৯টি ভবনের ১০ থেকে ২০ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে।সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থ বছরের আগেই দৃশ্যমান হয়ে দাঁড়াবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বপ্নে আবাসনগুলো।এর আগে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ সিজিএসব কলোনিতে ৯টি বহুতল ভবনে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য ৬৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। ৯টি পৃথক ভবনের ২০ তলা বিশিষ্ট এসব ভবনের মধ্যে ৬০৫ বর্গফুটের ১৫২ টি ফ্ল্যাট, ৮৫০ বর্গফুটের ৩০৪ টি ফ্ল্যাট এবং ১ হাজার বর্গফুটের ২২৮ টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ফ্ল্যাট নির্মানের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের শুরুর দিকে। ৩৯৫ কোটি ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৭ টাকা ৮৩ পয়সা মূল্যে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নির্মিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।চুক্তি অনুযায়ী এ প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু করোনার মহামারী শুরু হওয়ার পর গেল বছরের ১৫ মার্চ থেকে বন্ধ করা হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। এতে করে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়েও শুরু হয় শঙ্কা। তবে দীর্ঘ সাত মাস কাজ বন্ধ থাকার পর একই বছরের অক্টোবর থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করা হয়। যা বিদ্যমান রয়েছে। এরমধ্যে গেল ১১ মাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩৫ শতাংশ। সবমিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত। তবে বাকি কাজও শীঘ্রই শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ।গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৮ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনার কারণেই কাজে প্রভাব পড়েছিল। তবে সেটি কাটিয়ে ইতোমধ্যে কাজের গতি পেয়েছে। এখন পুরোদমে কাজ চলছে। এরমধ্যে একটি ভবনের ২০ তলা পর্যন্ত কাজ হয়েগেছে। সবমিলিয়ে ৫৫ থেকে ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, আগামী অর্থ বছরের আগেই কাজ শেষ করা যাবে।’সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় সবগুলো ভবনেই ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ভবনের ২০ তলা কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলো মধ্যে দুটি দশ তলা, তিনটি ১১ তলা এবং বাকিগুলো ১৩ এবং ১৪ তলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে।গণপূর্ত থেকে জানা যায়, দুই, তিন এবং চার নম্বর প্যাকেজে হিসেবে কাজ করছে চারটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে দুই নম্বর প্যাকেজটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জিকেভি এবং ফ্রেন্ডস ইন্টারন্যাশনাল (জেবি) সাথে চুক্তি হয় ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি। যাতে ৮৫০ বর্গফুটের একটি ও ৬৫০ বর্গফুটের দুটি ভবন রয়েছে। এরমধ্যে ৬৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে ১৫২ টি। বাকি ৭৬ টি ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। যাতে ১১০ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৯৫ টাকা ৫৭ পয়সা চুক্তি করা হয়। ডব্লিও-২ নামে প্যাকেজটির কাজ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ কাল। তিন নম্বর প্যাকেজটি এম জামাল এন্ড কোম্পানির সাথে ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর চুক্তি করা হয়। এতে ৮৫০ বর্গফুটের তিনটি ২০ তলা বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট রয়েছে ২২৮ টি। ১২৪ কোটি ৫৭ লাখ ১ হাজার ৭২০ টাকায় চুক্তি করা হয় প্রতিষ্ঠানটির সাথে। চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বরেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটিও করোনার কারণে শেষ না হওয়ায় মেয়াদকাল বাড়ানো হয়েছে। আর প্যাকেজ-৪ এ ১ হাজার বর্গফুটের ২২৮ টি ফ্ল্যাটের তিনটি পৃথক ভবন স্থাপন করা হবে। জিকেবিপিএল এবং রয়েল এসোসিয়েটের সাথে ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর এ চুক্তি করা হয়। তাও গত বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভবন নির্মাণে মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৬০ কোটি ৩ লাখ ২২ হাজার ৮১২ টাকা ২৬ পয়সা।

LEAVE A REPLY