যে কারণে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন শাকিব খান

0
349

আশির দশকে কায়সার আহমেদ বাংলাদেশ বেতারের জন্য ‘পাগল মন’ গানটি লিখেন। আশরাফ উদাসের সুরে গানটিতে কণ্ঠ দেন দিলরুবা খান। পরবর্তীতে তা তোজ্জামেল হক বকুলের ‘পাগল মন’ ছবিতে ব্যবহৃত হয়।


এছাড়া গত বছর মুক্তি পাওয়া শাকিব খান প্রযোজিত ও অভিনীত ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিতেও ব্যবহার করা হয়েছে। বিনা অনুমতিতে ছবিতে ব্যবহার করার অভিযোগে শাকিব খানের বিরুদ্ধে প্রথমে উকিল নোটিশ দেন দিলরুবা খান। এরপর ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ এবং গুলশান থানায় জিডি করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বেশ কয়েকবার কথা বলেন কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মৌখিক অনুমতি কপিরাইট আইনে অবৈধ এবং শাকিব খান আইন লঙ্ঘন করেছেন। প্রমাণিত হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে তাকে।

প্রথমে জানতে চাওয়া হয়, এ নিয়ে কি আপনার অফিসে কোনো সালিশি বৈঠক হয়েছে? বলেন, ‘আমাদের কপিরাইট অফিসে এটা বিচারাধীন নেই। কেউ অভিযোগ করেনি, কেউ আসেনি। এ গানের মালিক যারা (গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী) তারা গত বছর (২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর) তাদের নামে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করে রেখেছে। যেহেতু তাদের নামে কপিরাইট সার্টিফিকেট আছে, কপিরাইট আইনের ১৬ ধারা মতে যার নামে কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন থাকবে, যেকোনো আদালত তাকে মালিক হিসেবে জানবেন। এটা নিয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকবে না।’

‘এখন মালিকের প্রপার্টি যে কেউ যদি অবৈধভাবে ব্যবহার করে, সেটা শাকিব করেছেন। কপিরাইট আইনের ১৯ (১) ধারা অনুসারে কোন প্রকার মৌখিক অনুমতি আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়। কপিরাইট আইনে বলা আছে মাত্র দুটা শব্দও যদি ব্যবহার করা হয় বেআইনিভাবে এবং ওই দুটা শব্দ দ্বারা যদি গানটাকে চিহ্নিত করা যায়, সেক্ষেত্রে আপনি কপিরাইট লঙ্ঘন করেছেন। এখন উনি দুই লাইন নাকি দুই শব্দ ব্যবহার যেটাই করেন, সেটা অবৈধ। এটা কপিরাইট আইনের ৭১ ধারার লঙ্ঘন।’

শাকিব খান ও তার ছবির পরিচালক মালেক আফসারী বলছেন তারা দিলরুবা খানের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘দিলরুবা খান গানটির একমাত্র প্রতিনিধি নন। আরও প্রতিনিধি আছেন—গীতিকার, সুরকার। তাদের ব্যাপারে উনি কী করেছেন? দিলরুবা খানের মৌখিক অনুমতি নিলেও এটা আইনের চোখে গ্রহণীয় নয়।’

জাফর রাজা চৌধুরী প্রশ্ন তুলেন, ‘আপনি কেনো এটাকে ইউটিউবে মনিটাইজ করেছেন। এটার পারমিশন কার কাছ থেকে নিয়েছেন। ইউটিউবে আবার দুই লাইন না পুরো গানটাই বাজিয়ে শোনাচ্ছেন। আপনি আবার রবির কাছে হস্তান্তর করছেন। এ রাইটসটা আপনি কোথায় পেলেন। এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

‘পাসওয়ার্ড’ ছবির সহ-প্রযোজক মোঃ ইকবাল বলেছেন তারা ‘পাগল মন’ ছবির সহ-প্রযোজক নাদের চৌধুরী ও অনুপম রেকর্ডসের কাছ থেকেও অনুমতি নিয়েছেন।

‘অনুপম ইজ নো বডি। অনুপমের তো সে ক্ষমতায় নাই দেওয়ার। হু ইজ অনুপম? এ গানটা প্রথমে ১৯৮৬/৮৭ এর দিকে রেডিওর জন্য তৈরি হয়েছিলো। পরে এ গানটা তোজাম্মেল হক বকুল চাইলো ১৯৯৩ সালে ‘পাগল মন’ ছবিতে ব্যবহারের জন্য। ইট ওয়াজ নট প্রডিওস ফর দ্যট সিনেমা। তোজাম্মেল হক বকুল যখন অনুমতি চাইলো তারা (গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী) ওই সিনেমায় ব্যবহারের অনুমতি দিলো। মাইন্ড ইট, ওর কাছে কিন্তু স্বত্ত্ব, টাইটেল কিছু বিক্রি করিনি। এটা কোন সিনেমার গান নয়। আমি কোথাও একটা গান করলাম, সেটা এ সিনেমায় ব্যবহার করতে চাই, দ্যটস অল। আর কিছু নয়। তোজাম্মেল হক বকুলের সাথে তাদের কোন লিখিত চুক্তিও নেই। তারা বরং তোজাম্মেল হক বকুলের বিরুদ্ধে চাইলে অভিযোগ করতে পারবে’— বলেন জাফর রাজা।

তিনি আরও বলেন, ‘তোজাম্মেল হক বকুলও অন্যায় করেছিলো। তারা তাকে শুধু সিনেমায় ব্যবহারের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। এর ফলে গানটা ওই সিনেমায় ব্যবহার করেছেন। এখন আপনাকে আমি আমার উঠোনের মধ্য দিয়ে বের হওয়ার সুবিধা করে দিলাম, সেটা করে দেওয়ার ফলে আপনি কি আমার উঠোনের জায়গাটা বিক্রি করে দিতে পারেন? কিন্তু সেটাই ঘটেছে। এবং আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে বকুল সাহেব গানটাসহ আনোয়ার হোসেনের (অনুপমের মালিক) কাছে ছবিটা বিক্রি করেছেন! সে তো মালিকই হলো না, কীভাবে গানটা বিক্রি করে? কেউ অবৈধ কারও কাছ থেকে কিছু কিনলে সেটা কি শুদ্ধ হবে?’

জাফর রাজা চৌধুরী জানান, ‘পাগল মন’র কপিরাইট করানোর জন্য এসেছিলো অনুপম রেকর্ডিং মিডিয়া। তারা শুধু সিনেমার কপিরাইট সার্টিফিকেট দিয়েছেন, কিন্তু গানের দেননি। কারণ সিনেমাটির প্রযোজক তোজ্জামেল হক বকুল থেকে তারা শুধু সিনেমার কপিরাইট কিনেছেন। কিন্তু গানের কপিরাইট বকুলের কাছেই ছিলো না, তাদের কীভাবে দিবেন?

তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কপিরাইট আইনের ৮২ ধারা মোতাবেক ছয় মাস থেকে দুই বছরের জেল হতে পারে শাকিবের। একই সঙ্গে ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে।

কথা প্রসঙ্গে জাফর রাজা চৌধুরী জানান, একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির তিন ধরণের রাইটস হয়— মূল রাইটস, টিভি রাইটস, ডিজিটাল রাইটস। আবার চাইলে কেউ সিনেমা হল রাইটসও নিতে পারে।

তিনি বলেন, সিনেমার গানের ক্ষেত্রে মূল কপিরাইট প্রযোজকের। কিন্তু সে গান যদি পূর্বে অন্য কোন গ্রহণযোগ্য মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে তা সিনেমায় ব্যবহার করা হয় তাহলে গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর লিখিত অনুমতি ব্যতীত অন্য জায়গায় ব্যবহার অবৈধ। বিক্রয়ের প্রশ্নই আসে না। সেটাও অবৈধ।

LEAVE A REPLY