বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

0
91

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ক্লিয়ারেন্স পারমিট (সিপি) জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা এবার একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ‍পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তার মো. জলিল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিয়াম এন্টারপ্রাইজের মালিক।

শনিবার দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, জলিলকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকার চকবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসা হয়।

এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি পাঁচজন হলেন- সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান খান এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম মওলা খান ও তার ছোট ভাই গোলাম রসুল খান, ভূয়া ওয়েবসাইট সৃজনকারী আবুল খায়ের পারভেজ এবং খান এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স ব্যবহার করে ওই চালান খালাস কাজে জড়িত আতিকুর রহমান রাসেল ও রাহাত হায়দার চৌধুরী রানা।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ক্লিয়ারেন্স পারমিট (সিপি) জালিয়াতির একটি ঘটনা উদঘাটন করে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মূলত শর্তযুক্ত ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য এনে পরে বন্দর থেকে ছাড় করিয়ে নিতে না পারায় এ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে আমদানিকারক।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, অভিযুক্ত আমদানিকারক হলো ঢাকার ৬৬ মৌলভীবাজার ঠিকানার মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ (বিআইএন নম্বর : ০০১৫১৫৮৫৯-০২০৫)। প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়া থেকে ১৩ হাজার ৫২০ কেজি বাদাম ও ৪ হাজার ৫১০ কেজি অলিভ ঘোষণায় পণ্য আমদানি করে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যের চালান ছাড়িয়ে নিতে ওই আমদানিকারকের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করে চট্টগ্রামের শেখ মুজিব রোড ঠিকানায় অবস্থিত খান এন্টারপ্রাইজ।

কাস্টমস নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, নকল ওয়েবসাইটটির ডোমেইনে নামের বানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের নামের বানানের মতোই। পার্থক্য ছিল শুধু একটি ডট। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকৃত ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস (mincom.gov.bd)। অন্যদিকে ভুয়া ওয়েবসাইটটির অ্যাড্রেস (mincomgov.com)।

এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করে সেখানে সিপির কপি যুক্ত করেছে আমদানিকারক। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে দাখিল করা সিপির হেডিংয়েও এ ওয়েবসাইটের ঠিকানা বসানো হয়েছে। যদিও চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তত্পরতায় অভিনব এ জালিয়াতি করে পণ্য খালাস করিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নিতে সমর্থ হয়নি সিয়াম এন্টারপ্রাইজ।

এর আগে আমদানিকারক পণ্য ছাড়িয়ে নিতে আবেদন করলেও কাস্টমসের এইআর শাখায় সিয়াম এন্টারপ্রাইজের বিএল ও বিল অব এন্ট্রি লক করে দেয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে পণ্য চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় শর্তযুক্ত ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য মতে, সিয়াম এন্টারপ্রাইজের আমদানি হওয়া চালান পরীক্ষা করে ২১ হাজার কেজি ঘোষণাবহির্ভূত নেসলে লেকটোগ্রো ফরমুলেটেড মিল্ক পাউডার পায় কাস্টমস। এটা আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী শর্তযুক্ত পণ্য। চালানে মিথ্যা ঘোষণা ও আমদানি নীতি আদেশের শর্ত প্রতিপালিত না হওয়ায় চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকারকে ৬৬ লাখ টাকা ব্যক্তিগত জরিমানা ও ১০ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা আরোপ করে।

এর পাশাপাশি পণ্য চালান খালাস করে নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিপি দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সিয়াম এন্টারপ্রাইজ গত ১১ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সিপি কাস্টম হাউজে দাখিল করে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকারক দেয়া এ সিপি ও অন্য দলিলাদি যাচাই করলে জালিয়াতিটি উদ্ঘাটিত হয়।

LEAVE A REPLY