অভিজিৎ হত্যা মামলার আসামি

0
63

আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান এবং বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন অন্য দেশে গা ঢাকা দিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের ধরে এনে রায় কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের সামনে মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য উদ্বোধন শেষে সাংবাদিককের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের একটি দল এই বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ওই সময় দেশে জঙ্গি উত্থানের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টায় জঙ্গিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ব্যর্থ করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর জিয়াকে খোঁজা হচ্ছে।’

চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া ও আকরাম হোসেনের খোঁজ জানতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি ওই সংস্থার নাম উল্লেখ করেননি।

ভাস্কর্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মহীউদ্দীনের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের সদস্য সালাম চৌধুরী, ঢাকা-২০ আসনের সাংসদ বেনজীর আহমদ, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ নাঈমুর রহমান, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০ ফুট উচ্চতার রণাঙ্গনে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধার ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে দুর্বৃত্তরা অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হামলায় তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নিহত অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এরপর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ও জঙ্গিনেতা আকরাম হোসেনসহ পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

LEAVE A REPLY